top
top

হাওরের পানি ধীর গতিতে কমায় বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

হাওরের পানি ধীর গতিতে কমায় বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
Spread the love

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে চার দফা বন্যায় বিভিন্ন হাওরে পলিমাটি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ ভরাট হওয়ার কারনে ধীরগতিতে পানি কমায় বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওর পাড়ের বোরো জমি ও বীজতলা এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রতি বছর বোরো মওসুমের শুরুতে বাংলা কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজ ধানের চারার জন্য বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। চলতি বছর বীজ ধানের কিছুটা সংকট ও ধীর গতিতে হাওরের পানি নিষ্কাশনের কারণে বীজতলা ভাসমান না হওয়ায় বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে।

বীজতলা তৈরি নিয়েও কৃষকদের অনিশ্চয়তার শেষ নেই। এদিকে সুরমা ও বৌলাই নদীর সাথে সম্পৃক্ত পাকনা হাওরের পানি নিষ্কাশনের পথ, গজারিয়া স্লুইচ গেইটের খাল ১ কিলোমিটার পর্যন্ত ভরাট, ঢাইল্লা স্লুইচ গেইটের রাস্তা ভরাট, কানাইখালী নদী ভরাট, কাউয়াবাদা বাঁধ হাফ কিলোমিটার ভরাট, দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের পিয়াইন নদীর অংশের শেষ সীমান্ত পাকনা হাওরের কাইল্লায়ানী বাঁধের পিছন দিকে পলিমাটি ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারনে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি কমছে একেবারেই ধীর গতিতে। সময়মতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় হাওরের বোরো ধানের অধিকাংশ বীজ তলা এখনো ডুবে আছে। সুনামগঞ্জে চলতি বর্ষা মৌসুমে পরপর চার দফা বন্যার কারণে ও করোনায় শ্রমজীবি মানুষ ও কৃষকদের সারা বছরই কেটেছে অভাব অনটনে।

এ ছাড়া চলতি বছর অতিবৃষ্টি আর বন্যার কারণে সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, বিশ^ম্ভরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারা বাজারসহ হাওরাঞ্চলে আমন ধানের চাষও ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে গতিতে পানি কমছে তাতে বীজতলা ভেসে উঠতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। ফলে চলতি মৌসুমে ব্যাহত হতে পারে হাওরের বোরো আবাদ। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের চারা বিলম্বে রোপন করা হলে ধান পাকতেও বিলম্ব হবে। এতে করে বোরো ফসল ঘরে তোলার সময় চৈত্র-বৈশাখ মাসে আবারো বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। সরেজমিন জেলার শনির হাওর, পাকনা হাওর, হালির হাওর, ধারাম হাওর ও চন্দ্র সোনারথাল হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বললে ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক নবাব মিয়া জানান, হাওরের পানি এখনো কমছে না। পানি না কমায় বোরো ধানের চারা তৈরির সময় চলে যাচ্ছে, এতে করে ধান রোপনও পিছিয়ে যাবে।

কৃষক সাজিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, পানি না কমায় ও কিছু বীজ ধান সংকটের কারণে এবার আমরা কৃষকরা সমস্যায় আছি। সময়মতো বীজ বপন না করতে পারলে সেই গত বছরের মতোই কষ্ট করে ফসল করবো, আবার ধান পাকার আগেই বন্যায় তলিয়ে যাবার আশংকা থাকবে। গজারিয়া গ্রামের কৃষক প্রবাল মিয়া ও শেখ সাদী, হঠামারা গ্রামের কৃষক ফিরোজ আলী বলেন, হাওরের পানি সময়মতো না কমার কারণে কৃষকরা বীজতলা তৈরী করতে পাছেননা। স্থানীয় ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ টি হাওরে বোরো জমি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর (৪৮ হাজার ৩৪৫ একর)। কিন্তু কৃষকদের বেসরকারী হিসেব মতে আমন ছাড়াই বোরো জমি প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর।

এরম মধ্যে উপজেলার সর্ববৃহৎ ফসলী এলাকা পাকনা হাওরের ৯৪৫৫ হেক্টর (২৩,৩৫৫ একর), হালির হাওরে ৫৪৯০ হেক্টর (১৩৫৭৫ একর), শনির হাওর আংশিক ৬৪০ হেক্টর (১৫৮০ একর), মহালিয়া হাওরে ২৫০ হেক্টর (৬২০ একর), চাঁদরা হাওর ৮০ হেক্টর (১১৫ একর), ধয়লার হাওর ১৫০ হেক্টর (৩৭০ একর), গজারিয়ার হাওর ৮১৫ হেক্টর (২০১৫ একর), দিরাই চাতল হাওর ৪ হেক্টর (৯৮৮ একর), সনোয়ার হাওর ২৩০ হেক্টর (৫৭০ একর), রৌয়ার হাওর ৪০০ হেক্টর (৯৮৮ একর), ডাকুয়ার হাওর ৫০০ হেক্টও (১২৩৫ একর), জোয়ার ভাঙ্গার হাওর ৩৪৫ হেক্টর (৮৫৫ একর), ঘনিয়ার হাওর ৪০০ হেক্টর (৯৮৮একর) জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৩৬ হাজার ৫০০ হেক্টর, উফশী ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে।

এজন্য ৮ হাজার ৭১৭ হেক্টর বীজ তলা তৈরি করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহকারী পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জে চার দফা বন্যায় হাওরে পলিজমে পানি নিষ্কাশনের পথে কিছুটা বাঁধার সৃষ্টি করেছে। পানি নিষ্কাশন দেরিতে হওয়ায় কৃষকরা একটু সমস্যায় পড়েছেন। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই পানি নামবে। কৃষকদের বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই।

এইচকে / পিজে