top
top
Breaking News

অসুস্থ ও হার্টএটাকে বৃদ্ধের মৃত্যুকে খুন দাবী করে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

অসুস্থ ও হার্টএটাকে বৃদ্ধের মৃত্যুকে খুন দাবী করে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: অসুস্থ ও হার্টএটাকে বৃদ্ধের মৃত্যুকে খুন দাবী করে একাধিক মামলা দিয়ে সাধারন ও নিরপরাদ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউণিয়নের ইসলামপুর উত্তরপাড়া গ্রামে। মামলা ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ইসলামপুর গ্রামের নিহত মানিক মিয়ার পুত্র আমির হোসেন ও শুকুর আলীর মধ্যে ভারতীয় অবৈধ পণ্য নিয়ে বিরোধের জেরে পঙ্গু আবুল কালামের চায়ের দোকানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধায় এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সালিশ বৈঠকে আমির হোসেন দোষী সাব্যস্থ হওয়ায় তাকে আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এ নিয়ে আমির হোসেন ও তার ভাইরা ক্ষেপে শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। তবে কেহ গুরুতর আহত হয়নি। এ ঘটনার খবর আমির হোসেনের বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতা মানিক মিয়া বাড়ির পাশের্^ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে লোকজন বৃদ্ধ মানিক মিয়াকে মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ্য করার চেস্টা করেন। স্থানীয়রা মানিক মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং কর্তৃব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ মৃত্যুকে পুজিঁ করে স্থানীয় একটি দালালচক্র গ্রামের অসহায় ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যা মামলায় আসামী করার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। যারা টাকা দেয়নি তাদেরকে আসামী করা হয়েছে। সুত্র আরও জানায়, নিহত মানিক মিয়ার লাশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করতে চাইলে পুলিশ প্রথমে না করতে চাইলেও পরে করতে বাধ্য হয়। তবে পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে নিহত মানিক মিয়ার শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই মর্মে উল্লেখ করা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য দালালচক্রটি উঠে পড়ে লেগে যায়। চায়ের দোকানদার পঙ্গু আবুল কালামের স্ত্রী জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্ভর সন্ধায় আমাদের চায়ের দোকানে একটি শালিস বৈঠক হয়েছিল। উক্ত শালিসে আমির ও শুকুরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহত মানিক মিয়া ঘটনাস্থলে ছিল না। তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির পাশের্^ বসেছিল। হঠাৎ শুনা যায়, বৃদ্ধ মানিক মিয়া রাস্তার পাশের্^ অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। আশপাশের মানুষ দৌড়ে গিয়ে মানিক মিয়াকে মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ্য করার চেস্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মানিক মিয়া মারা যায়। তাকে কেউ আঘাত করেনি। হানিফ মিয়া জানান, নিহত মানিক মিয়া হঠাৎ রাস্তার পাশের্^ মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলে তাকে ধরাধরি করে আমার বাড়ীতে নিয়ে আসে এবং মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ্য করার চেস্টা করি। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুকে পুজিঁ করে এলাকার দালাল চক্র গ্রামের অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে না পেরে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। এ ব্যাপারে বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ব্যবসায়ী পারভেজ মিয়া জানান, আমাদের এলাকার রাজাকারপুত্র ও জয়নাল হত্যার প্রধান আসামী শাহিনুর, তাহের বিডিআর, সদর ইউএনও অফিসের পিয়ন ফুরকান ভুইয়া, বর্তমান মেম্বার বিল্লাল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম নিহত মানিকের ভাই আব্দুল জলিলকে বাদী করে আমাদের উপর মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। এ ছাড়াও মৃত মাতু মিয়ার পুত্র হিরন মিয়াকে বাদী করে মারামারির আরেকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। দুই মামলার একই জখমী আসামী দেখানো হয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিষয়টি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না এবং এ ঘটনার কিছুই জানিনা।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মো: শহিদুর রহমান জানান, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে গত ২৬ সেপ্টেম্ভর একজন বৃদ্ধ হার্টএটাকে মৃত্যু হয়েছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছিল কিন্তু নিহতের ভাই বাদী হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা ও একই ঘটনা, একই সাক্ষী দিয়ে আরও একটি মারামারি মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কাউকে অন্যায়ভাবে হেনস্থা করা হবে না।