top
top
Breaking News

যাত্রীবাহী বাসে পণ্য পরিবহনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

যাত্রীবাহী বাসে পণ্য পরিবহনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসে পণ্য পরিবহনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে জেলা ট্রাক কার্ভাডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার রাত ৯টায় শহরের ওয়েজখালী এলাকায় অবরোধ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী পুরণের আশ^াসের প্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। সুত্র জানায়, সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসষ্টেশন এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসে পণ্য পরিবহনের কারণে জেলা ট্রাক, কার্ভাডভ্যান শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত লোডের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় যাত্রীরা। তারই প্রতিবাদে ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়। ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস আল-শামীম, একতা,সাকিন,এনপি, লিমন, আরপি পরিবহনের বক্সে মাছের ড্রাম ও মালামাল বহন করে আসছিল। ফলে ট্রাক শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। ট্রাক শ্রমিকরা যাত্রীবাহী বাসে যাতে পণ্য পরিবহন না করে সে জন্য বার বার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে আসছিল। সর্বশেষ গত বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসক বরাবরে সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্র্যান্ক লড়ি ও কার্ভাডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যাত্রী বাহী বাসে কোন ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার দাবী জানিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিলসহ পন্য পরিবহণকারী বাসগুলো অবরোধ করে। এ দিকে দিরাই, জগন্নাথপুর,ছাতকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে যাতে কোন ধরনের পন্য বহন করতে না পারে সেজন্য সর্বত্রই শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছে।
এ ব্যাপারে সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, আরটিএ’র সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা গত একমাস যাবৎ সার্ভিস দিয়ে আসছি। মাছগুলো আমাদের ট্রাক দিয়ে পরিবহন করে আসছি। হঠাৎ করে সাকিনের মালিক, আরপি’র মালিকসহ ৩জন মালিক সুনামগঞ্জে এসে চ্যালেঞ্জ করে যাত্রীবাহী বাসে করে মাছ ঢাকায় নিয়ে যাবে এবং আমরা পরিবহন শ্রমিকরা কিছুই করতে পারব না। আমাদের শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে এবং পণ্যবাহী বাসগুলো অবরোধ করেছে। আমরা চাই যাত্রীবাহী গাড়িগুলো মাছ না টেনে শুধু যাত্রী পরিবহন করে এবং আমরা ট্রাক শ্রমিকরা ট্রাকে মাছসহ মালামাল পরিবহন করি। তবেই একদিকে যেমন আমরা শ্রমিকরা দু’বেলা দুমুঠো খেতে পারব অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পক্ষে এসিল্যান্ড সাহেব আমাদের আশ^স্থ করেছেন আগামীকাল থেকে যাত্রীবাহী বাসে কোন ধরনের পন্য পরিবহন করতে দেয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তাই আমরা আমাদের শ্রমিকদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়েছি এবং যাত্রীবাহী বাসগুলো যার যার গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। আগামীকাল থেকে আমাদের দাবী পালন না করা হলে আবারও রাস্তায় অবরোধসহ ধর্মঘট করতে প্রস্তুত আছি। জেলা সাধারন সম্পাদক নুর উদ্দিন জানান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুরোধে আমরা আমাদের অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মছব্বির জানান, যাত্রী বাহি বাস যাত্রী পরিবহন করবে, মাল পরিবহনের জন্য আমরা ট্রাক, লরি শ্রমিকরা প্রস্তুত আছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের অবরোধ প্রত্যাহার করছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদ জানান, যাত্রীবাহী বাসে কোনভাবেই পণ্য পরিবহন করা যাবে না। পরিবহন আইনে সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।