top
top
Breaking News

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে করোনাকালেও সাধারণ মানুষের পাশে আছেন যারা

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে করোনাকালেও সাধারণ মানুষের পাশে আছেন যারা
Spread the love
ছায়াদ হোসেন সবুজ::  
বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে গোটা বিশ্ব।এক অপরিচিত সময়ের সাথে সাক্ষাত হয়েছে পৃথিবীর  মানুষের।সরকারকেও নিতে হয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এক অজানা ভাইরাস সকলকে কাবু করে জনজীবনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনেছে।দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে ব্যাপক।
লকডাউনে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে নিরুপায়ভাবে ঘরবন্দি হয়েছে । ক্রমশ জৈবিক চাহিদার তাড়নায় হতদরিদ্র মানুষ ছুটে চলেছে দু’মুঠো অন্নের খোঁজে।সমাজের দুঃস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের  এমন সীমাহীন দুর্ভোগে বসে থাকেনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ  উপজেলার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বগণ।
করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে শতশত স্বল্প আয়ের পরিবারে। এসব পরিবারের দুঃখ দুর্দশার কথা ভেবে মানবতার কল্যাণে করোনার প্রথম থেকেই এ আসনের সাংসদ পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নানের নির্দেশনায় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ , উপজেলা পরিষদ ও  উপজেলা প্রশাসন ছুটে চলেছেন অভিরাম।
লকডাউনের প্রথম থেকেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের  গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তারা ছিলেন সচেষ্ট।এবং সরকারি ত্রান সামগ্রী গ্রহণ ও ন্যার্য প্রাপ্ত মানুষের মাঝে তা বিতরণে নিয়েছেন এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।সরকারি সহায়তা ও নিদর্দেশনা বাস্তবায়নে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়তই ছুটেছেন মানুষের কল্যাণে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসেন হয়েছিলেন করোনায় আক্রান্ত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা৷ সুস্থ হয়ে আবারো ফিরেছেন মানবিক কাজে।
শুধু আওয়ামীলীগ কিংবা প্রশাসনই নয় মহামারীর এই সময়ে বিএনপিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের ভুমিকাও ছিল চুখে পড়ার মত। যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছেন মানুষের পাশে দাড়ানোর। করোনার এই সময়ে সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।
মানবিক মানুষ হিসেবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজের নাম স্মরণ করতেই হবে৷ কেননা করোনা পরিস্থিতি এই উপজেলায় সর্বপ্রথম তিনিই এগিয়ে গিয়ে ছিলেন করোনাক্রান্তদের পাশে। তাদের খোজখবর নেয়ার পাশাপাশি ভিটামিনযুক্ত ফলমূল নিয়ে গিয়েছেন আক্তান্তদের বাড়িবাড়ি৷ শুধু করোনাই নয় ৩দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন শুকনো খাবার নিয়ে৷ প্রতিনিয়ত খোজখবর রেখেছেন তাদের। যার দরুন কুড়িয়েছেন অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা আর সাধারণ মানুষের বুকভরা ভালোবাসা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিনের  এর কথা না বললে ভুলই হবে। তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর উন্নত করেছেন।উপজেলাবাসীর চিকিৎসায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সর্বাত্নকভাবে।তার কাজ ও কর্মতৎপরতা মানবিক অবদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুস্হ হয়ে আবারো নিজেকে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত করেছেন তিনি। তার এ অবদান সবসময় মনে রাখবে উপজেলার মানুষ।
করোনাকালে দেশের অন্য জেলা ও উপজেলায় আমরা অনাহারে থাকার খবরও পেয়েছি সেখানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কোন মানুষ অনাহারে রয়েছে বলে শোনা যায়নি।
সামাজিক পুঁজির যথার্থ ব্যবহার হয়েছে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য সে কথা দক্ষিণ সুনামগঞ্জের  সামাজিক সংগঠন  ও এসব ব্যক্তিরা প্রমাণ করেছে।তাদের মানবিক উদ্যোগ দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকুক।পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষা নিক।মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনে ভূমিকা রাখুক।