top
top
Breaking News

একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে সুনামগঞ্জে এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ

একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে সুনামগঞ্জে এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত ২৭ এপ্রিল ২০২০ ইং রোজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মেজর ইকবাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্মুখে পুলিশ সদস্য হাফিজুরের বাড়ীতে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান উপস্থিত না থাকার সত্বেও তাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
স্থানীয় ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আক্তারুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান আপন দুই ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার তারিখ ও সময়ে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাকে জড়িয়ে আসামী করে স্থানীয় সুনামগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আক্তারুজ্জামানের পুত্র রফিকুজ্জামান রুহেল। আরও জানা যায়, রফিকুজ্জামান রুহেল পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানান সময় পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দায়ের করে হয়নারী করে আসছেন। যা সরজমিনে তদন্তে কোনটারই সত্যতা পাননি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য গত ২৮ ফেব্রæয়ারী ২০১৯ তারিখে পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ৭টি স্থানে অভিযোগ দায়ের করেন রফিকুজ্জামান রুহেল। প্রতিটি অভিযোগেরই তদন্তপূর্বক ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন রয়েছে। চলতি বছরের গত ২৭ এপ্রিল সোমবার উভয় পক্ষের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হাতাহাতির ঘটনায় উভয় পক্ষই সুনামগঞ্জ সদর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করলেও বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়াও গত ২২ ফেব্রæয়ারী ২০১৯ তারিখে রফিকুজ্জামান রুহেল পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযোগটি সদর থানার এসআই আব্দুল হান্নান সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ ছাড়াও ২০১৮ সালে রফিকুজ্জামান রুহেলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোছা: সুমনা আক্তার সুর্বনাকে বাদী করে সদর থানায় পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। যা পরবর্তীতে এসআই রিপন চন্দ্র গোপ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ঘটনার সাথে পুলিশ সদস্য হাফিজুর কিংবা তার পরিবারের সদস্য জড়িত থাকার কোন প্রমানাদি না পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের মনিরুজ্জামানের ক্রয়কৃত ঘাসিগাও মৌজাস্থিত জেএল নং ৫২, খতিয়া নং ৪১৩, দাগ নং ৩৬১৬ ও ৩৬১৮ মোট সাড়ে ৪২শতক ভুমি দীর্ঘ দিন যাবৎ ভোগাদিকার থাকলেও প্রতিপক্ষ রফিকুজ্জামান রুহেল ও খালিকুজ্জামান সাগর গং পেশী শক্তি ব্যবহার জবর দখলের পায়তারা করে আসছে। তারই জের ধরে গত ২৭ এপ্রিল রুহেল ও সাগর গং জোরামুলে বর্নিত ভুমির গাছ গাছরা ও মাটি কেটে নেয়ার চেষ্টা করে এবং তাতে বাধা দেয়ায় মনিরুজ্জামানের উপর হামলা করে। এ ছাড়াও উক্ত ভুমি রুহেল গং জবর দখল করার সমুহ সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মনিরুজ্জামান বাদী হইয়া গত ২৩ আগস্ট ২০১৯ ইং তারিখে সদর থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। যার জিডি নম্বর ১৪২৯।
তারই জের ধরে গত ২৭ এপ্রিল রফিকুজ্জামান রুহেল ও তার ভাই খালেকুজ্জামান সাগর গং তপশীল বর্নিত ভুমি হইতে জোরামুলে মাটি কেটে এবং উক্ত ভুমিতে রূপায়িত গাছ গাছরা ধ্বংশ করে জবর দখলের চেষ্টা করায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান, মো: আলী নয়ন, আপন, মুন্না, উজ্জ্বল, অন্তর, আমিনা খাতুন গুরুতর জখম হয়। এ বিষয়েও সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা আছে। অপর দিকে রুহেলের পক্ষে আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গত ২৮ এপ্রিল উক্ত ভুমিতে রফিকুজ্জামান রুহেল ও সাগর গং জোরামুলে মাটি কেটে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান জানান, ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি আমি আমার গ্রামের বাড়ীতে যাই না। আমার ক্যান্সার আক্রান্ত পিতাকে চিকিৎসার স্বার্থে শহরের ষোলঘরে ভাড়াটিয়া বাসায় অবস্থান করছি। মারামারি কিংবা জায়গা জমি সংক্রান্ত ঝামেলায় আমি কখনও জড়িত ছিলাম না। সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে আমাকে জড়িয়ে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়ের করে হয়রানী করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, মাটি কাটা নিয়ে দুপক্ষের মাঝে ঝামেলা হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে ছিল কিনা জানি না।
এ ব্যাপারে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার তারিখ থেকে ৪দিনের কল লিষ্ট দৃষ্টে দেখা যায় যে, ঘটনার সময় উক্ত স্থানে পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান ছিলনা কিংবা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে থাকার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।