top
top
Breaking News

সুনামগঞ্জে সরকারী দরে এখনই বোরো ধান ক্রয়ের দাবী

সুনামগঞ্জে সরকারী দরে এখনই বোরো ধান ক্রয়ের দাবী
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জে হাওরের ধান কেটে রাখার জায়গা না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়েই স্বল্পমূল্যে স্থানীয় ফড়িয়া বা দালালদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সরকারী দরে এখই তাদের বোরো ফসল ক্রয়ের দাবী কৃষকদের। দেরী করে কৃষকের ধান ক্রয় করা হলে ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে উৎপাদিত সোনালী ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। ফলে ধান উৎপাদনে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ অবস্থায় থেকে কৃষকদের প্রনোদিতা দিতে সরকার ১০৪০টাকা মন দরে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান দিতে পারছেন না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং এখনই কৃষকের কাছ থেকে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। ফলে কৃষি উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা আগ্রহ পাবে এবং ধান উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য চাহিদা পুরণ সম্ভব হবে। আর এই বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব শেষে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে কৃষকরা মাত্র ৫শ টাকা মন দরে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ধান ক্রয়ে বিলম্ব হলে কৃষকের কাছে ধান থাকে না। চলে যায় ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। এমন কথা জানিয়েছেন কৃষক ও স্থানীয়রা। ঋণে জর্জড়িত কৃষকদের দাবী সরকার এখনই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করুক। কিছুদিন পর ধান ক্রয় করলে এসব ধান চলে যায় দালাল কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে। ফলে কৃষকরা তাদের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয়। জেলা ধান-চাল ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি জানিয়েছিল গম ১০ মে লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা তৈরী করে কৃষক পর্যায়ে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, সুনামগঞ্জে প্রায় সাড়ে তিন লাখ চাষি পরিবার আছে। এ বছর হাওরে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় ৪৮ ভাগ ধান কাটার দাবী জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ দিকে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা ৫ লক্ষ মেট্রিকটন মিটিয় আরো সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিকটন উদ্ধৃত্ত থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্র জানায়, চলতি মাসের ২৮ এপ্রিল থেকে ভারতের মেঘালয় ও বরাক উপত্যকায় মেঘ গতি বদলে পার্বত্য এলাকার দিকে চলে গেছে। তাই ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে বৃষ্টিপাত না হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার পুরো ফসল কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। জেলা খাদ্য বিভাগ সুত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় কৃষক পর্যায় ২৫ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হবে। মিলারদের কাছ থেকে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার শর্তে আরো ২৯ হাজার মেট্রিকটন চাল কেনা হবে। রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ধান চাল সংগ্রহ জেলা কমিটির জরুরি সভায় কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ ও উপজেলা খাদ্য মনিটরিং কমিটিকে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কৃষকের খসড়া তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭ মে এর মধ্যে তালিকা যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন করে আগামী ১০ মে এর মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা লটারির মাধ্য উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১০ মের পরেই ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। তবে এ বছর যাতে মিলাররা বাইরের জেলা থেকে চাল না এনে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে গুদামে চাল দেয় সে লক্ষ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মাস থেকে মিলারদের বিদ্যুতের মিটার চেক করা হবে। একই সঙ্গে যেসব কৃষকদের কাছ থেকে তারা ধান কিনে চাল করবেন সেইসব কৃষকের নাম, তালিকা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বিজ্ঞ ও সুধীমহল জানান, ফড়িয়ারা কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের কৃষকের তালিকায় যুক্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে আঁতাত করে লটারীতে বিজয়ী কৃষিকার্ড সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। তারা কৃষকদের কার্ড সংগ্রহ করে গুদামে বরাবর ধান দিয়ে লাভবান হয়ে থাকেন। তা ছাড়া অনেক কৃষক এখনই জরুরি প্রয়োজনে ৫০০ টাকা দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের দাবী এখনই সরকার কর্তৃক ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করার দাবী জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার মিয়া জানান, এক মাস পরে সরকার আমাদের কাছে থেকে ১০৪০ টাকা মন ধরে ধান ক্রয় করবে। উৎপাদিত ধান এখন কোথায় রাখবো আর ধান কাটতে গেলেও দৈনিক ৭শ টাকা ধরে ধান কাটার শ্রমিকদের দিতে হয়। হাতে টাকা নাই বিধায় ৫শ টাকা মন ধরে ধান বিক্রি করে ধান কাটার শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে। ফলে আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশী হচ্ছে। আমরা চাই সরকার এখনই আমাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করুক।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান জানান, এখনই ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড সংগ্রহ শুরু করেছে। কৃষকের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে তারা ধান দিয়ে নিজেরা লাভবান হবে। তাই প্রকৃত কৃষকরা যাতে লাভবান হয় সে উদ্যোগ নিয়ে এখনই ধান ক্রয় শুরু করতে হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, আমরা রবিবার জরুরি সভা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি। কোনো ফড়িয়া যাতে কৃষকের নাম ভাঙিয়ে ধান দিতে না পারে সে দিকে সতর্ক থাকব। পাশাপাশি মিলাররা যাতে এলাকার কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কিনে চাল করে গুদামে দেয় সে লক্ষ্যে তাদের মিলের বিদ্যুৎ মিটার চেক করা হবে এবং কৃষকদের তালিকাও দিতে হবে। এবার ধান চাল সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।